HomeCybersecurity newsফেসবুকে প্রচলিত হ্যাকার টিম এবং তথাকথিত সার্ভিস!

ফেসবুকে প্রচলিত হ্যাকার টিম এবং তথাকথিত সার্ভিস!


ফেসবুকে প্রচলিত একটি হ্যাকার টিমের সার্ভিস লিস্ট যারা কিনা এসব “সার্ভিস” ইথিক্যাল হ্যাকিং এর তকমাতে প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে বিক্রি করেন। আবার অনেকে এগুলো শেখানোর জন্য কোর্সও করান – আপনারাই আবার সেইসব কোর্সে এনরোলমেন্ট করেন!

আসুন সবার আগে তাদের সার্ভিস লিস্ট দেখে নিই…

“আপনারা কি শিখবেন অথবা শিখবেন না?” সেটি নির্ধারণ করে দেবার রাইট আমার নেই তবে সেই কোর্সের শিক্ষাকে “সাইবার সিকিউরিটি” ট্যাগ দেওয়া এটিতেই আমার আপত্তি বা এলিগেশান (কেননা এগুলো শিখেই আদতেই আপনি সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন না বরং সিংহভাগ সময়ে আমাদের সহজাত প্রবৃত্তিতে ক্রা’ইম এর জগতে ঢুকে পড়ার প্রবল সম্ভবনা থাকে/ যা সাইবার সিকিউরিটির একদম উল্টো পীঠ সাইবার ক্রা’ইম)!

অপরাপর বাংলাদেশ প্রচলিত এইসকল সাইবার এক্সপার্ট’রা আবার যেকোন সাইবার এক্টিভিটি সেলিব্রেশনে নিজেরাই নিজেদের মাঝে ক্রেডিট নিয়ে কু’কুরের মতো কাম’ড়াকা’মড়ি করতে পিছপা হয়না!

আবার সেই তাতেই আপনারা কমেন্টে কতো কি বাহবা কিংবা আগুনে ঘি ঢেলে উষ্কে দিয়ে থাকেন [ আমরা নিজেরা নিজেদের নিকট কতোটা লেইম সেটা আয়নাতে কখনো দেখি কি?]!

ইথিক্যাল হ্যাকিং বনাম সাইবার ক্রাইম?!

এনিওয়্যে আমার কনসার্ন অন্য বিষয়ে – “এই যে এসব এক্টিভিটি তারা এজ সার্ভিস প্রোভাইড কিংবা এজ সাবজেক্ট লার্নিং করান সেটা আদৌ কি ইথিক্যাল হ্যা/কিং যা কিনা সাইবার সিকিউরিটি পারপাসে ইউটিলাইজেশান করা যায়?!”

নাহ, একদমই আমি বলছি না যে এসব হ্যাকিং টেকনিক নয়; অবশ্যই এগুলোও হ্যাকিং (অনেকের কাছে আবার শুধু এগুলোই হ্যাকিং)। তথাপি শুরুতে যে “ইথিক্যাল” বিশেষণ যুক্ত করা সেটার অর্থ কি?!

হ্যা, এখানেও এলিগেশান থাকে যে নিজের সুরক্ষায় অন্য কারোর ক্ষতি না করলেই সেটা ইথিক্যাল তথাপি এখানে যেসব ব্যবস্থাপনা তার সব কয়টিই তো ইলিগ্যাল – তাহলে এখানে এথিক্সের অবকাশ কোথায় থাকছে?!

আচ্ছা…তবুও থাকতেই পারে কেননা আমাদের যার যার লাইফের পারসেপশন ভিন্ন ভিন্ন – তদুপরি এগুলোর ইথিক্যাল ইউটিলাইজেশান যদি থেকেও থাকে সেখানে আমার মূল এলিগেশান বা আপত্তি হলো ইথিক্যাল হ্যাকিং নামে তারা আসলে “হ্যা/কিং” বিষয়টাকেই প্রকারন্তরে ছোট বা খাটো করছেন [এই বিষয়ে সবার শেষের বাক্যটি পড়ার অনুরোধ থাকবে]!!!

এমন পরিস্থিতি ততোদিন অবধি আমাদের সাইবার ফিল্ডে থাকবে যতোদিন না অবধি আমরা সাধারণ মানুষ আদৌ বুঝতে শিখবো “হ্যাকিং কি?” – কেননা এনোনিমাস মুখোশ পড়লেই হ্যাকার হওয়া যায় না অন্যদিকে জোকার মাস্ক পড়েও রিয়েল লাইফ হ্যাকার হওয়া যায় – এটি এতোটাও সহজ নয় আর ততোটাও কঠিন নয় (ক্যাচিং লাইন)!

যাই হউক এই সকল বিষয়ের ডিটেইলস সংক্ষেপে এখানে উল্লেখ করার কারন যাতে অন্তত আপনাদের মাঝে কৌতূহলের বশে “বিষয়” না জেনেই নিজেই নিজেকে অন্যের দ্বারা হ্যাকড না হউন!


প্রচলিত “হ্যাকার সার্ভিস” সমূহের বিশ্লেষণ:

*** সার্ভার কপি (NID API Misuse)

এটি মূলত NID নাম্বারের বিপরীতে জাতীয় তথ্য সেবার গভঃমেন্ট ওয়েব পোর্টাল [https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/] এর এপিআই হতে মূল কপির প্রত্যায়িত অনলাইন কপি বের করা। এই সকল এপিআই মূলত অন্যান্য বিভিন্ন সরকারী ওয়েব পোর্টালে ভেরিফিকেশনের জন্য এপ্লিকেশন অথেনটিকেশনে ব্যবহৃত হয়; উদাহরণস্বরূপ এক সময়ের “পরিচয় এপিআই” এর বিষয়টি ক্লোজলি কোডগত ফাংশান স্ট্যাডির জন্য রিসোর্স হতে পারে [গিটহাব রিপো: https://github.com/bilashcse/nid-verification]। এখন যেহেতু সরাসরি https://services.nidw.gov.bd এর ওয়েব ভার্নাবিলিটি না থাকলেও তা হতে যেসকল API প্রোভাইড করা হয় সেইসকল গভঃমেন্ট ওয়েবসাইটের দূর্বলতা থাকে তাই সহজেই অন্যরা ঐ এপিআই এর মিস ইউটিলাইজেশান ঘটে। আবার যারা ইতিমধ্যেই (ইতিপূর্বে) এপিআই এক্সেস পেয়েছেন তারা না জানি কতোটা ইনফরমেশন গ্রাবিং করে পারসোনাল ডাটা হাব বানিয়েছে – অন্যদিকে অনৈ’তিক পথে ডাটা লি’ক করার কারিগরের তো অভাব নেই আমাদের প্রিয় দেশের… আমি এখানে এমন এপিআই হয়তো প্রোভাইড করতে পারি না তবে ডর্ক ব্যবহার করে রিসার্চ ও এনালাইসিস কিংবা বাগ বাউন্টি অথবা ইথিক্যাল উদ্দেশ্য থাকলে site:gov.bd এর যেসব ওয়েব পোর্টাল এনআইডি তথ্য ভেরিফাই করে সেখান হতে https://humayunshariarhimu.github.io/ApiDorkRun/ দ্বারা এপিআই খুজতে পারেন।

*** বায়ো চেকার

এটি NID এর ক্রস ভেরিফিকেশান পদ্ধতি যা বায়োমেট্রিক সিগনেচার অথেনটিকেশন নিশ্চিত করে। আমাদের সকল কনফিডেনসিয়াল তথ্য যেমন সিগনেচার, ফিংগারপ্রিন্ট, আই মুভমেন্ট, ফেইস রিকগনাইজেশনাল ম্যাপিং ইত্যাদি সবই মূলত কিছু এনক্রিপ্ট কোড আকারে (Key শুধুমাত্র মূল সার্ভারে বিদ্যমান থাকে এবং সকল এনআইডি এর বিপরীতে বারকোডে একটি PIN ক্যাটালাইজেশান থাকে মাত্র) সুরক্ষিত থাকে। বাংলাদশী NID সিস্টেম স্ট্যাডির জন্য এটি রিসোর্স ও ল্যাব ডেমোনেস্ট্রিভ ইলিমেন্ট হতে পারে – গিটহাব রিপো লিংক https://github.com/HumayunShariarHimu/Bangladeshi-NID-System

*** TIN সার্টিফিকেট, E Reuter ও Zero Return

এটি যে কেউ নিজেই নিজের জন্য TIN সার্টিফিকেইট গভঃমেন্ট ওয়েবসাইট হতে https://secure.incometax.gov.bd/Registration এপ্লিকেশন করতে পারেন। সকল TIN এর বিপরীতে যে কেউ উপরের মতোই সহজেই https://etaxnbr.gov.bd ওয়েব সাইট হতে নিজের ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। যেকেউ গভঃমেন্ট ওয়েবসাইট হতে জিরো রিটার্ন দাখিল করতে পারেন [জিরো রিটার্ন সাবমিট বিষয়ে এটা হতে স্ট্যাডি করতে পারেন:- https://www.dhakatribune.com/business/368817/how-to-submit-zero-income-tax-return-online-in]।

[ব্যক্তিগত বক্তব্য/মন্তব্য: মজার কথা হলো এই TIN এর QR ম্যানি’পুলেট করে সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হতে যেকোন TIN সার্টিফিকেট জেনারেট করা যায় – যা আপাত ক্লিয়ারেন্স অবধি সহজেই বাই’পাস করা চলে]

Police Clarence ও জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট

Police Clarence: এটি বাংলাদেশ পুলিশের গভঃমেন্ট ওয়েবসাইট https://pcc.police.gov.bd/ords/r/pcc/pcc/home হতে যে কেউ তার ক্লিয়ারেন্স এপ্লিকেশন ও আফটার ভেরিফিকেশান উহার তথ্য নিশ্চয়তা পেতে পারেন।

জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট: যে কেউ সরকারী ওয়েবসাইট https://bdris.gov.bd/br/application হতে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে পারেন।

NID সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সার্ভিস

ইনফো দিয়ে এনআইডি: এখানে “ইনফো” বলতে আসলে ঠিক কি বোঝাচ্ছে সেটি নিশ্চিত নয় তথাপি যদি “NID Number কিংবা DOB” ইত্যাদি হয় এমন বিভিন্ন পাবলিক এন্ড গভঃমেন্ট ওয়েবসাইট আছে যা হতে এনআইডি কপির প্রতিলিপি পাওয়া চলে ক্রস ভেরিফিকেশনের জন্য API ইনট্রিগেশানে এমন তথ্যের ক্রস চেক করা যেতে পারে। অপরাপর “ইনফো” বলতে যদি মোবাইল নাম্বার বোঝানো হয় তাহলে সেটিও টেলি অপারেটরের API এর মাধ্যমে তথ্য লিকেজ হয় অথবা অসৎ ব্যক্তি কর্তৃক এমন তথ্যের মিসইউটিলাইজেশান ঘটে।

NID ডাউনলোড ও ইউজার পাস: যেকেউ তার নিজের NID কার্ড এর জন্য এপ্লিকেশন কিংবা স্বীয় একাউন্ট ক্লেইমিং মাধ্যমে https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ হতে NID Wallet এপ্লিকেশনের মাধ্যমে ফেইস ভেরিফাইপূর্বক সহজেই নিজের একাউন্ট গ্রাউন্ড পেতে পারেন যেখান হতে তিনি নিজের এআইডি কার্ড সরাসরি ডাউনলোড, সংশোধন আবেদন ইত্যাদি সকল এক্সেসই পাবেন।

NID To All Number: এটি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর অফিশিয়াল এপ্লিকেশনে একটি NID এর বিপরীতে কতোগুলো সীমকার্ড নিবন্ধিত আছে সেটার সংখ্যা এবং ঐ অপারেটরের সকল নাম্বার জানা যায় অথবা *16001# ডায়াল করেও NID এর সর্বশেষ ৪ ডিজিট হতে নিবন্ধিত সকল নাম্বারের তালিকা পাওয়া যায়।

অপরাপর NID এর ঐ একই API ব্যবহার করে টোটাল সীমকার্ড লিস্ট অপারেটর ওয়াইজ প্রোভাইডেশান হতে জানা যায়।

মোবাইল ও লোকেশন ট্র্যাকিং সংক্রান্ত মিথ্যাচার

[মার্ক:- আশ্চর্যের বিষয় এখানে তারা শুধুমাত্র এক্টিভিটি লিস্ট বাড়াতে একই বিষয় কতোবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। এখন বলতেই হচ্ছে আদতে তারা কিন্তু হ্যা’কিং জানে – যেটা আপনার আপনার ব্রেইনকে ম্যানি’পুলেট করে স্বীয় সার্ভিস বা কোর্স বিক্রি করছেন – এটাকে সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বলা চলে যাতে ভি’ক্টিম স্বয়ং আপনিই!]

  • IMEI To Device Info:এটি চেক করার বিভিন্ন টুলস এবং ওয়েব এপ্লিকেশন ইন্টারনেটে এভিলেবল যেমন www.imei.info | www.imeicheck.com/imei-check | www.imei.org ইত্যাদি।
  • Number To Location History:এটি আসলে আংশিক মিথ্যা কেননা শুধুমাত্র (রিপিট: শুধুমাত্র) নাম্বার হতে যে লোকেশন হিস্ট্রি পাওয়া যায় তা মোবাইল অপারেটর কর্তৃক উক্ত সীমকার্ডের নাম্বারের নির্দিষ্ট ডেট ও টাইম ওয়াইজ টুজি পিং ডাটার মাধ্যমে কাছাকাছি সকল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের লোকেশন প্রদান করে মাত্র। একচুয়াল একিউরেসি নিয়ে Longitude ও Latitude সহ পিন পয়েন্ট লোকেশন কখনোই ট্রা’কিং হয়না।
  • ফেসবুক টু লোকেশন:এটি প্রায় ডাহা মিথ্য কেননা কারোর ফেসবুক একাউন্ট হতে কখনোই তার একচুয়াল লোকেশন টেকনিক্যালি পাওয়া পসিবল নয়।
  • Number To Contact List / কল রেকর্ড:এটি যদি আদতেই করতে হয় তবে R’AT অথবা রিমোট এক্সেস এপ্লিকেশনের মাধ্যমেই করা পসিবল। AndroidRaT বিষয়ে ডিটেইলস পেতে পারেন গিট টপিক:- https://github.com/topics/androidrat
  • কল লিস্ট বের করা:এটি যেকোন নাম্বারে উক্ত সার্ভিস অপারেটর কর্তৃক ডায়াল করা সকল কল লিস্ট বা তালিকা পাওয়া যায়। https://www.grameenphone.com/dashboard/call-history
  • SIM কার্ড অফ:এটি আপনি নিজেই করতে পারেন। বেশ কিছু অপারেটর (যেমন বাংলালিংক, রবি বা এয়ারটেল) এর নিজস্ব এপ্লিকেশন হতে NID এর বিপরীতে Menu অপশন হতে সীম কার্ড ডিএক্টিভ করার আলাদা ফাংশান থাকে।

আর্থিক ও অন্যান্য সরকারী তথ্য সংক্রান্ত সার্ভিস

  • বিকাশ/নগদ ইনফরমেশন ও বন্ধ:বিকাশ অপারেটর হতে যেকোন বিকাশ একাউন্ট নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়। [বিঃদ্রঃ এখানে বিকাশ ও নগদ একাউন্টের তথ্যের বিষয় বলা হয়েছে সেটিও API এর মাধ্যমে মিস ইউটিলাইজেশান করার মাধ্যমে অনৈ’তিক উপায়ে তথ্য গ্রাব করা যায়]। বন্ধ করার প্রক্রিয়া সাধারণত রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে হয়।
  • মার্চেন্ট সীম:আসলে মার্চেন্ট সীম বিশেষ কোন সীমকার্ড নয় বরং এটি বিকাশ পরিসেবা যা সহজেই বিকাশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট [https://www.bkash.com/en/business/merchant] হতে মার্চেন্ট এপ্লিকেশন করা যায়।
  • এনআইডি টু পাসপোর্ট:বিভিন্ন সরকারী ওয়েব পোর্টালে এনআইডি নাম্বারের বিপরীতে পাসপোর্ট অনুসন্ধান করা যায় যেমন https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status

যাই হউক – সবিশেষ যে কথাটি বলতে চাওয়া “হ্যা’কার হওয়ার জন্য আহামরি খুব যে সফটওয়্যার কিংবা টুলসের প্রয়োজন এমন নয় বরং এটির জন্য প্রয়োজন হয় কেবলমাত্র একটি যুক্তিনির্ভর মস্তিষ্ক – যা সূক্ষ ও তীক্ষ্ণভাবে যেকোন সমস্যা সমাধানের নানান উপায় বের করতে সমর্থ হবে” – এই সহজ কথাটিই আমরা বুঝতে চাইনা তাই HacKing করতে পারা তো দূরের কথা আদৌ আমরা এটির ডেফিনিশন’ই জানি না।

অপরাপর “আপনি আমার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে দেখান তো”….এই কথাটি বলার অর্থই হলো ইতিমধ্যেই আপনি হ্যা’ক হওয়ার জন্য অন্যকে আপনার লীড দিয়েই দিয়েছেন!!!


✨ টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ রইলো✨





Source link

2 months ago (March 4, 2026) 11 views
Report

About Author (199)

Administrator

সিস্টেম ডিকোড করা আমাদের নেশা।

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

Switch To PC